Sunday, March 16, 2014

কবি - বাউন্ডুলে একজন - ১

কবি - বাউন্ডুলে একজন - ১
১৪ই মার্চ, ২০১৪, বিকাল ৪:৩০; সোবহানবাগ, ঢাকা

সেদিন পথে দেখা গেলো, বাউন্ডুলো এক কবি,
কিছুই নেই তার, এজীবনে খুইয়েছে প্রায় সব-ই!
জীবনও তাকে ফেলে চলে গেছে বহু বহু দূর,
অর্ধেক জীবন পার হয়ে যায়, এখনো সে খুঁজে মরে সুর!
সুর, ছন্দ, শব্দ ও ছবিরা - অধরা থেকে যেন কবিরে ভোগায়-
রোগ, শোক, অর্থ ও বিত্ত - তারাও নিত্য দাগা দিয়ে যায়!

তবু ব্যাটা কবি রসে ভরপুর, চোখ টিপে টিপে বলে হুড়মুড় -
"আমার নিজের বউ তো নাই, তাই অন্যের বউয়ে নিরলে তাকাই!
তবে মুশকিল হলো এই - সুন্দরীরা সব বাস করে ষন্ডা লোকের সাথেই!
পাছে বিরলে ঠ্যাঙ্গানি খেতে হয় - তাই বই ও কবিতার নানা বাহানায়
সুন্দরী সঙ্গ সামলে নেই! -- অমর কবিতা না হয় এজীবনে
আর পাওয়া না গেলো - অন্ত:ত কিছু সুর ও সুন্দরী সঙ্গে
আরাধ্য কৃষ্ণ-জীবন কিছুটা তো সার্থক হলো!"
... ... ...
... ... ...
... ... ...
নানা গল্পে এভাবে বেলা কেটে যায় - সন্ধ্যা গাঢ়তর হয়!
... ... ...
রাত বাড়তেই গৃহী নানা জন যার যার ঘরে সংসারে ফিরে যায়-
আর বে-ঘর বাউন্ডুলে কবি আজ রাতে থাকবে কোথায় ভেবে ডুবে যায় চিন্তায়!


Friday, October 18, 2013

ফুলমুন, ফুলমুন - ১

ফুলমুন, ফুলমুন - ১

ফুলমুন, ফুলমুন - তুমি
করো কেনো ধুনফুন ?
এতো রাত তক জাগিয়ে
রাখো - তাড়াও চোখের ঘুম!
ফুলমুন, ফুলমুন!

জোয়ার জাগাও সাগরেতে
বাঞ্ছা করি তোমায় পেতে!
তোমার আলোর মায়াবীতে
যাদুর শহর পাড়ি দিতে
ঘর ছেড়ে হই - লুন!
ফুলমুন, ফুলমুন!

গৌতম দাদু বুদ্ধ হলো
রাহুল ছেড়ে পালিয়ে গেলো!
তোমার নেশায় মহুয়া পেলো
জীবন জগত শুদ্ধ হলো - শুন!
ফুলমুন, ফুলমুন!

ফুলমুন, ফুলমুন - তোমার
এত্তো গুলা গুণ?
সবাই ছুটে তোমার টানে
পান করে চায় তোমার পানে
তাদের মাথায় চাপাও খুন!
ফুলমুন, ফুলমুন!

ফুলমুন, ফুলমুন - তুমি
কবির মুখ করো যে চুন!
শব্দেরা সব পালিয়ে গেলো
ছন্দ এলো ছন্দ গেলো
কবির নেইতো কোনো গুন!
ফুলমুন, ফুলমুন!


Thursday, October 3, 2013

আগারগাঁও গোরস্থান - ১

আগারগাঁও গোরস্থান - ১

বেশ প্রশস্ত রাস্তার ধারে প্রবীন নিবাসের ওপারে
খুব ছায়াময় গাছ-গাছালির নিচে যেন চুপটি করে
লুকিয়ে ছিল এতগুলো বছর! আমি দেখতে পাইনি
মোটেও - এত এতদিন! অথচ কত কত চাঁদের রাতের
মায়ায় এই পথে আমি হেঁটে গেছি একা ও অন্য কারো
সাথে!
সেদিন যেন হঠাত ঘুম ভাঙ্গলো মসজিদটির
পাশেই -- গোরস্থানে কারা যেন নিয়ে এলো লাশ!

ফরজে কিফায়া পালনে আত্মীয় অনাত্মীয় আরো আরো অনেকে
এসেছে ছোট খোলা ট্রাকে দাঁড়িয়ে! শুধু মসজিদ নিরুত্তর -
আর শুন শান শুয়ে আছে এই একা গোরস্থান! ওপারে প্রবীণেরা
দিন গুনে চলে কবে হবে এই তরু ছায়া তলে অন্তিম চির শয়ান!

গোরস্থান যেন তার-ই অপেক্ষায় থাকে; আর যেন আমাকেও
হঠাত দেখে কিছুটা কাছে ডাকে! আমি যদিও মোটেও প্রস্তুত নই
এখনই কোনো প্রস্থানে! ...

Thursday, September 26, 2013

নশ্বরতার যাদু - অবিনশ্বর ...? - ১

নশ্বরতার যাদু - অবিনশ্বর ...? - ১

অবিনশ্বরে আস্থা হত হতে হতে -
নশ্বর প্রতিটি মুহূর্তের মায়ায় ডুবে যেতে চাই!
ছন্দ-সুর-সুধা-সঙ্গীতের যাদু নিয়ে বসে আছো-
তুমি অতি নশ্বর কিছু মুহূর্তের জন্য যে ছন্দ-সুন্দরী-
তোমাতে শুধু আকন্ঠ নয়, ওষ্ঠ সহ ডুবে যেতে চাই!

অতি নশ্বর কিছু প্রশ্বাসের উত্থানে ও পতনে -
তোমার উপত্যকায় যে ঢেউ খেলে যায় -
তাকে কি ছোঁয়া যায় এই নশ্বর দেহ মন নিয়ে?
বুকের গনগনে আগুনকে উস্কে দেয়া তোমার হাপর-হাওয়া-
আটকাবো কিভাবে বলো এই নশ্বর দেহ মন নিয়ে?

কামারের নেহাই নিয়েও হোক - তোমার দোহাই!
গড়ে-পিটে নাও এই দেহ-মন - শুধু এই দু-দন্ড প্রয়োজনে!
অবিনশ্বরে কোনদিন হবে কি হবে না আমার ঠাঁই-
শুধু কি এই চিন্তায় ঘুমে-জাগরনে স্মরণে-বিস্মরণে কেটে গেল কাল?
আজ এই সকালে - তুমি এসে, নশ্বর মুহূর্তে মিশে - আমাকে দাও রেহাই!




রচনা: ঢাকা, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩
সকাল ১১টা

Friday, July 26, 2013

কালাহারি - হিয়েরোস-গ্যামোস - ১

কালাহারি - হিয়েরোস-গ্যামোস - ১
(৩রা মার্চ, ২০১০)

মরুতাপে নেতানো শুকানো আর বড় পিপাসার্ত এই কবি কালাহারি,
বাস্তবিক জটিল কুটিল কত হিসেবের খেলা:
কে কাকে দেয়, চুপিসারে কে-ই বা কত নিয়ে নেয়,
কোথায় কত ব্যবসার মার-প্যাঁচ, কত সামাজিকতার মেকীপনা ----
বোঝে না, বোঝে না, বোঝে না -- কিছুতেই বোঝে না, এই আধা-গাধা কবি কালাহারি।

অথবা কি এমন - বুঝেও না বোঝার ভান করে এই জন ?
বলেও না বলার ভান?
চেয়েও না চাওয়ার ভান?
ছুঁয়েও না ছোঁয়ার ভান?
অভিমান, অভিমান, অভিমান?
কার পরে? কার তরে? কোন অধিকারে?
অধিকার, অধিকার, অধিকার।
বড় তীব্র, বড় বেশী সুতীব্র এই চিৎকার।
কি আমার অধিকার তোমার ওপর? অথবা বিপ্রতীপে?

কোন অধিকারহীন গান্ধর্বমিলনে, রাজী কি তুমি সুলোচনা মেয়ে?
রাজী কি, নিখাদ শব্দেরও অধিক শরীরের খাদে খাদে, মিশে যেতে?
যামিনীতে? যমুনায়? জঙ্গমে? সঙ্গমে?

কি হবে এই সব বলে ক'য়ে?
কি হবে কেনগুলির উত্তর দিয়ে?
কি হবে অর্গল খুলে, কথার সব জল, কলকল করে ঢেলে দিয়ে, তোমার উপর?
প্লাবিত হবে তুমি? ভাবিত হবে তুমি? নমিত হবো আমি শুদ্ধ প্রার্থনায়?

আত্মজা ছায়া - ১

আত্মজা ছায়া - ১

তোরে কেন এতো ভাবি?
এতো কেন গাই তোর একপেশে গীত?
তুই কষ্মিনকালেও খবর না নিলেও ...
আমি কেন হই উন্মন উচাটন ...
তোর কথা ভেবে ভেবে সারাদিন সারাক্ষণ ...??
কত ঋতু আসে যায় ...
কত রঙ রূপ বদলায় ...!
তবু কেন মনে পড়ে তোরে ...
কিবা গ্রীষ্ম, কিবা বর্ষা, কিবা শীত ...??
তুই কি জানিস মনে ...
তোরই বিন্দু আবাহনে ...
তোরই দূরন্ত চোখে মুখে ...
আমি দেখি আমার কালান্ত অতীত...???

সোজাসুজি রবীন্দ্র-প্রণয়ের পরে - ১

সোজাসুজি রবীন্দ্র-প্রণয়ের পরে - ১

(বিশ্বকবি র.ঠা.)
"বাসন্তী রঙ বসনখানি নেশার মত চক্ষে ধরে,
তোমার গাঁথা যূঁথীর মালা স্তুতির মত বক্ষে পড়ে!
একটু দেয়া একটু রাখা, একটু প্রকাশ একটু ঢাকা,
একটু হাসি একটু স্মরণ, দুজনের এই বোঝাবুঝি,
তোমার আমার এই যে প্রণয় নিতান্তই সোজাসুজি!"

(কবি (?) কা.)
সোজাসুজি নিত্য প্রণয় - বাঁধন-হারা মুক্ত স্বাধীন
যেন হয, যেন খুব হয় -
অন্তরের আকাঙ্খিত চির-যমুনায়!
কবে পাবো সেই রাধিকারে ---?
কিংবা আকারে প্রকারে নানা গোপিনীরে...??

(কবি অ.ই.)
"বুঝি না কোন আকার প্রকার
রাধিকার বিরহভার
গোপিনী হতেও রাজী আছি
কৃষ্ণ যদি বাজায় বাঁশি
অসীম কোন অবোধ কথা
স্বাধীন হয়ে যায় কি বোঝা?
দুটি প্রাণের কাহিনী টা, বন্ধন ছাড়া হয় না মোটেই
তোমার আমার এই যে প্রণয় কি করে তবে সোজাসুজি...???"

(কবি (?) কা.)
যুক্ত প্রাণের মুক্ত উৎসারে ...
বন্ধনহীন গুপ্ত অভিসারে ...
চিরায়ত রাধা চলে চিরদিন ...!
কালের কৃষ্ণ এসে সতৃষ্ণ ...
বাজায়ে বাঁশি হয় বিলীন...!!!
রাধা খুঁজে মরে...শত গোপিনীরে লয়ে...
হায় রে মরণ! রাধিকারমণ কোথায় থাকে চুরি ক'রে...!!!
 
... (চলবে...???)